চাষী মানিক

শখের খামার

(এগ্রো প্রোজেক্ট)

আমাদের প্রত্যেকেরই পেশাগত, ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। আদিমতম পেশা কৃষিতে পাই অনাবিল আনন্দ। কৃষিতেই সমৃদ্ধ আগামীর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখি। আমি কৃষিকে ভালবাসি। আর নিজেকে একজন চাষী পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।

বাংলাদেশে কৃষি নিয়ে কাজ করতে গেলে প্রথম বাঁধা আসে পরিবার হতে। কোন বাবা-মা চায়না তার সন্তান লেখা পড়া শেষ করে কৃষক হোক। বাংলার প্রত্যেকটি পরিবারই চায় তার সন্তান সরকারি চাকুরী করুক। আর সেজন্য তারা জমি সম্পত্তি বন্ধক দিয়ে, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হলেও ঘুষ দিয়ে সন্তানকে সরকারি চাকুরী দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু সন্তানকে হালাল পথে ব্যবসায় করে স্বাবলম্বি হতে আর্থিক সহায়তা করা বা মানসিক সাপোর্ট করার ব্যাপারে উদাসীন। আসলে প্রত্যেকটি অভিবাবক চায় তার সন্তানের ধারাবাহিক নিরাপদ নিশ্চিত আয়। তারা কখনোই চায়না তাদের সন্তান অর্থনৈতিক, শারীরিক কিংবা মানসিক কোন ঝুঁকির মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করুক। আর সেজন্য তারা ব্যবসায়ের চেয়ে চাকুরীকে অধিকতর পছন্দ করে। আর সেটা যদি হয় কৃষি ব্যবসায় তাহলেতো কথাই নাই। তারা কখনো ভাবেনা তাদের সন্তান সামান্য কিছু মাসোহারার বিনিময়ে নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে অন্যের সম্পদের পাহাড় গড়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রশ্ন করতে পারেন সবাই কি সফল হতেপারে, সবাই কি উদ্যোক্তা হতেপারে ? আমিও জানি সবাই জীবনে সফল হতে পারেনা, সবাই উদ্যোক্তা হতে পারেনা, উদ্যোক্তা হওয়া ছেলের হাতের মোয়া না ! সবার মধ্যে সেই কোয়ালিটি নাই। কিন্তু যে তরুনদের মধ্যে কিছু করার প্রত্যয় আছে, উদ্যোক্তা হওয়ার প্রকৃত গুনাবলী আছে তাদেরকে একটু সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এই সমাজটা, দেশের চেহারাটা বদলে দেওয়ার জন্য এই স্বপ্নবাজ তরুনরাই যথেষ্ট।

আমার কাছে এখন পর্যন্ত পরিবারের বাঁধা ডিঙিয়ে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আমার কাজকে অতটা ভয় পাইনা, যতটানা ভয় পাই আমার পরিবারকে, এই সমাজকে।

ইউটিউবে আমার “Shokher Khamar” নামে একটি চ্যানেল রয়েছে। সেখানে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন টিউটোরিয়াল নিয়মিত আপলোড দেওয়া হয়। ফলে নতুন উদ্যোক্তা এবং পুরাতন কৃষক সবাই উপকৃত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও আমার চ্যানেলটি ব্যাপক সারা ফেলেছে। আগ্রহী বাংলা ভাষাভাষি যে কেউ চাইলে এখান হতে বাস্তবভিত্তিক কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্যবহুল ভিডিও দেখে উপকৃত হতে পারে। এছাড়াও ফেসবুক, টুইটার, গুগল, ইউটিউব ইত্যাদি প্রায় সব জায়গায় আমাদের হেল্পলাইনের মোবাইল নম্বরটি দেয়া আছে। ফলে যেকোন ফার্মার প্রয়োজনে কল করে তার সমস্যাগুলো আমাদের জানাতে পারে। আমরা চেষ্টা করি অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের সঠিক গাইডলাইন দিতে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি যাতে কৃষিতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়। আমার প্রতিষ্ঠান “শখের খামার এগ্রো প্রজেক্ট” তার নিজ অবস্থান হতে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা সমাধানে অবদান রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

পোল্ট্রি শিল্পের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পোল্ট্রি খাদ্য ও ঔষধের দাম অত্যাধিক। যদিও আমি কোন ভেটনারী ডাঃ নই, ভেটনারী সম্পর্কে আমার কোন ডিগ্রীও নাই। তারপরও আমি চেষ্টা করছি পোল্ট্রিতে কৃষক কিভাবে উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভবান হবে তা নিয়ে কাজ করতে। আমাদের আশেপাশে সহজলভ্য উপাদান গুলো ব্যবহার করে কিভাবে অল্প খরচে নিজে নিজেই ফিড তৈরি করা যায় তা কৃষকদের শেখানোর চেষ্টা করছি। ঔষধ খরচ কমিয়ে আনার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান যেমনঃ মধু, আদা, রসুন, তুলসি পাতা, নিমপাতা, হলুদ, কালোজিরা, আজোওয়াইন, মেথি ইত্যাদি ব্যবহারের ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করে আসছি। সাম্প্রতিক সময়ে সৌখিন পোল্ট্রি পালক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পোল্ট্রি বিষয়ক পরামর্শ সেবা সহজলভ্য করার সুবিধার্থে ফেসবুকে Turkey & Poultry Masters Community School নামক একটা গ্রুপ তৈরি করেছি। যেখানে শুধুমাত্র পোল্ট্রি ও ইনকিউবেটর বিষয়ক পরামর্শ ও সমস্যার সমাধান দেয়া হয়।

পরিশেষে-জয় হোক কৃষকের, জয় হোক কৃষির। সকলকে ধন্যবাদ।